ব্যয় সংক্রান্ত জাবেদা করার নিয়ম। হিসাব বিজ্ঞান সাধারণ জাবেদা পার্ট ০২ । । hisab biggan shadaron jabeda part 02
আজ আমরা যেই সূত্র নিয়ে আলোচনা করব তা হচ্ছে ঃ
সূত্র
ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট
ব্যয় হ্রাস পেলে ক্রেডিট
এবার আসুন জেনে নেই ব্যয় সমূহ যেমনঃ পণ্য ক্রয়, বেতন, ভাড়া, মনিহারি, মজুরি, বিজ্ঞাপন, গ্যাস বিল, পানি বিল, বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল, ক্রয় পরিবহন, বিক্রয় পরিবহন, বহিঃ পরিবহন, আন্তঃ পরিবহন, বিমা, ডক চার্জ, প্রদত্ত কমিশন, মামলা খরচ, উপয়োগ খরচ, অফিস সাপ্লাইজ, আপ্যায়ন খরচ, যন্ত্রপাতি মেরামত খরচ, ব্যাংক জমাতিরিক্তের সুদ ইত্যাদি।
ব্যয় সমুহের তালিকা দেখতেঃ এখানে ক্লিক করুণ
এখুন কথা হচ্ছে এই ব্যয় গুলা কিভাবে বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়??আসু জেনে নেয়া যাক কিভাবে ব্যয় হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়।
ব্যয় কিভাবে বৃদ্ধি পায়ঃ আসলে ব্যয় করলেই ব্যয় বৃদ্ধি পায় । যেমন ধরুন আপনি পণ্য ক্রয় করলেন তাহলে আপনার ক্রয় নামক ব্যয় বৃদ্ধি পেল । অর্থাৎ উপরের এই ব্যয় সমূহ গুলা ঘটলেই ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তাহলে ব্যয় হ্রাস পাবে কিভাবে??
এখন ব্যয় হ্রাস পায় কিভাবে ঃব্যয় হ্রাস পায় যদি ক্রয় ফেরত দেয়া হয় , অথবা ক্রয়কৃত পণ্য দান করে দেয়া হলে, মালিক যদি পন্য উত্তলোন করেন, বেতন বাবদ পণ্য প্রদান করলে।
আসুন একটা গল্পের মাধ্যমে বুঝি। মনে করেন আপনি বাজার থেকে ১০,০০০ টাকার মনিহারি ক্রয় করলেন। বাড়িতে এসে দেখলেন আপনার ক্রয়কৃত মনিহারির মাঝে ৫০০ টাকার পণ্য নষ্ট , তো আপনি অবশ্যই এই ৫০০ টাকার পণ্য টি ফেরত দিতে যাবেন তাইনা??
এবার আসুন মূল ঘটনায় আসি দেখেন আপনি যখুন ১০০০০ টাকার মনিহারি ক্রয় করলেন তখুন আপনার ব্যয় হলো কতো টাকা ?? ১০,০০০ টাকা তাইতো?? এবং কি নামক ব্যয় ? মনিহারি নামক ব্যয় । তো আমরা আগেই বলেছি ব্যয় হলেই ব্যয় বৃদ্ধি পায় । তার মানে এখানে আপনার মনিহারি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে । অন্য দিকে ৫০০ টাকার পন্য নষ্ট থাকায় সেটা ফেরত দেয়া হলো তাহলে এখুন মোট ব্যয় কতো?? ১০,০০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বাদ দিয়ে যায় হয় সেটাই মোট ব্যয় , অর্থাৎ ৯,৫০০ টাকা মোট ব্যয় । তাহলে আগে ব্যয় ছিল ১০,০০০ টাকা আর এখুন ৯,৫০০ টাকা , তো এখানে ব্যয় কি কমে যাচ্ছেনা??
এক কথায় মনে রাখবে ব্যয় হলেই ব্যয় বৃদ্ধি পায় , আর ব্যয় ফেরত দেয়া হলে ব্যয় হ্রাস পায় । অথবা ক্রয়কৃত পণ্য দান করে দেয়া হলে, মালিক যদি পন্য উত্তলোন করেন, বেতন বাবদ পণ্য প্রদান করলে।
হিসাব বিজ্ঞানের অংক করার সময় মনের করতে হবে যে আমি নিজেই একজন ব্যবসায়ী , এই লেনদেন গুলা আমার নিজের।
এখুন আমরা কিছু উদাহরণ দেখি ঃ
০১। নগদে ১,০০,০০০ টাকার পণ্য ক্রয় ।
খেয়াল করে দেখুন এখানে উল্ল্যেখ আছে নগদ টাকায় পণ্য ক্রয় করার কথা বলা আছে । তার মানে আমরা এই ১,০০,০০০ টাকার পণ্য নগদ টাকা দিয়ে কিনেছি , অন্য দিকে দেখো লেখা আছে পণ্য ক্রয় করার কথা বলা আছে তার মানে এটি ব্যয় সংক্রান্ত জাবেদা । তো আমরা এখুন আবারও সূত্র টি মনে করি , ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট আর ব্যয় হ্রাস পেলে ক্রেডিট । কিন্তু দেখুন এখানে আমরা একটি ব্যয় এর নাম পাচ্ছি আর একটি সম্পদের নাম পাচ্ছি । আমরা এর আগের পর্বে সম্পদ সংক্রান্ত জাবেদা তে বলেছিলাম সম্পদ বৃদ্ধি পেলে ডেবিট আর সম্পদ হ্রাস পেলে ক্রেডিট।
যেহেতু এই লেনদেনের মধ্যে মনিহারি ক্রয় করা হচ্ছে তাই , এখানে মনিহারি নামক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে , পক্ষান্তে নগদ টাকার বিনিমনে ক্রয় করায় নগদ সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে । তাই এর জাবেদা হবেঃ
ক্রয় হিসাব ডেবিট= ১,০০,০০০ টাকা
নগদান হিসাব ক্রেডিট = ১,০০,০০০ টাকা
এর পরে নিচের মতো করে ছক একতে হবে
আরও কিছু জাবেদা ঃ
০২। মনিহারি ক্রয় ১০,০০০ টাকা ।
এই লেনদের ভিতর নগদ, বাকি, ধারে, বাংক , চেক কোন কিছুই উল্ল্যেখ নেই , তার মানে আমাদের ধরে নিতে হবে এই লেনদেন টি নগদে হয়েছিল। অর্থাৎ আমরা নগদ ১০,০০০ টাকা দিয়ে মনিহারি ক্রয় করি। যেহেতু আমরা মনিহারি ক্রয় করেছি তাই আমাদের মনিহারি নামক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে আর অন্য দিকে নগদ টাকায় ক্রয় করায় নগদ সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে তাই এর জাবেদা হবে ,
মনিহারি হিসাব ডেবিট = ১০,০০০
নগদান হিসাব ক্রেডিট=১০,০০০
০৩। চেকের মাধমে বেতন প্রদান ৬,০০০ টাকা ।
এই লেনদেনের মধ্যে চেক কথা টি উল্ল্যেখ আচ্ছে তার মানে এই বেতনের টাকা টা আমরা নগদে দেইনাই , তো কিসে দিছি? ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট আছে আমারা সেই ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা পরিশোধ করেছি। তাহলে বেতন প্রদান করায় বেতন নামক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে আর চেকের মাধ্যমে দেয়াতে ব্যাংক নামক সম্পদ হ্রাস পেয়েছে তাই এর জাবেদা হবে
বেতন হিসাব ডেবিট=৬,০০০ টাকা
ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট=৬,০০০ টাকা
-----------------------------------------
___________________________
আরও পড়ুন>




1 comment